মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে পাকিস্তান। ২০২৪ সালের মে মাসে দেশটির প্রথম চন্দ্রাভিযান 'আইকিউব-কামার' (ICUBE-Q) এবং এর পরপরই আধুনিক যোগাযোগ উপগ্রহ 'পাকস্যাট-এমএম১' (PakSat-MM1) সফলভাবে কক্ষপথে প্রেরণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
১. ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান: আইকিউব-কামার (ICUBE-Q)
৩ মে ২০২৪ তারিখে চীনের 'চেঞ্জ-৬' (Chang’e-6) মিশনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ক্ষুদ্র উপগ্রহ ICUBE-Q চন্দ্র কক্ষপথে পৌঁছায়।
- মাইলফলক: এর মাধ্যমে পাকিস্তান বিশ্বের ৬ষ্ঠ দেশ হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব গবেষণা সরঞ্জাম পাঠাতে সক্ষম হলো।
- কারিগরি দিক: এটি প্রায় ৭ কেজি ওজনের একটি কিউবস্যাট (CubeSat), যা ইসলামাবাদের ইন্সটিটিউট অফ স্পেস টেকনোলজি (IST) এবং সুপারকো (SUPARCO) তৈরি করেছে। এটি চাঁদের পৃষ্ঠের ছবি তোলা এবং চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করছে।
২. যোগাযোগ খাতে বিপ্লব: পাকস্যাট-এমএম১ (PakSat-MM1)
চন্দ্রাভিযানের কয়েকদিন পরেই, ৩০ মে ২০২৪-এ পাকিস্তান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে তাদের প্রথম মাল্টি-মিশন যোগাযোগ স্যাটেলাইট PakSat-MM1।
- মাইলফলক: এটি পাকিস্তানের 'ডিজিটাল পাকিস্তান' ভিশন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করবে।
- কারিগরি দিক: ৫ টনেরও বেশি ওজনের এই স্যাটেলাইটটিতে C, Ku, Ka এবং L ব্যান্ডের অত্যাধুনিক ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি পৃথিবী থেকে ৩৮,৭৮৬ কিমি উচ্চতায় ভূ-স্থির (GEO) কক্ষপথে অবস্থান করছে।
৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: মহাকাশে মানব ও মঙ্গল অভিযান
সুপারকো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে তারা প্রথম পাকিস্তানি মহাকাশচারীকে চীনের সহায়তায় মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ এবং মঙ্গল গ্রহে অভিযানের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পাকিস্তান।