বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
বাজার পরিস্থিতি:
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত কয়েক কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI) উভয় ধরনের তেলের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ( ১২০ ) ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে একটি রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালের পর তেলের বাজারে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আর দেখা যায়নি।
কেন বাড়ছে দাম?
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের দাম বাড়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে:
১. সরবরাহ সংকট: ওপেকের (OPEC) সদস্য দেশ এবং সহযোগী দেশগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেলের উৎপাদন না বাড়ানোয় বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
২. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
৩. চাহিদা বৃদ্ধি: করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে শিল্পোৎপাদন ও যাতায়াত স্বাভাবিক হওয়ায় তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
প্রভাব পড়বে স্থানীয় বাজারেও:
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ‘আগুনে’র আঁচ লাগতে শুরু করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও এর মাশুল গুনতে হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে দাম এভাবে বাড়তে থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও তেলের দাম সমন্বয় করার চাপ তৈরি হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওপর।
বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের সরকার। আগামী দিনগুলোতে ওপেক প্লাস দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।