দীর্ঘ ১০ দিনের তীব্র ও মাঝারি তাপপ্রবাহের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এই বৃষ্টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য আশীর্বাদের চেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে দেশের হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস:
- ভারি বর্ষণ: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৭ এপ্রিল (সোমবার) থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারি (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারি (>৮৮ মি.মি.) বৃষ্টি হতে পারে।
- বন্যার শঙ্কা: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারতের মেঘালয় অংশে ৫০০-৭০০ মি.মি. পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই এবং নেত্রকোনার কংস নদের পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
- ঝড় ও বজ্রপাত: বৃষ্টির সাথে ৬০-৮০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বজ্রপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা:
হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম চলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে যেসব ক্ষেতের ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, তা দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলের অকাল বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, আজ সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী চার দিন দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরির ঘনঘটা বাড়বে, যা তাপপ্রবাহ প্রশমিত করে দেশজুড়ে বৃষ্টি নিয়ে আসবে।