ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, "আমরা চাই ডিসেম্বর হোক পরীক্ষার মাস এবং জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হোক। এতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং সেশনজট সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে।
সেশনজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগঃ
বিগত কয়েক বছরে কোভিড-১৯ মহামারি এবং বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার সময়সূচীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুই বছরের কোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারে, সে বিষয়েও সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনঃ
নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইতোমধ্যে সংশোধিত পাঠ্যসূচি ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে। এছাড়া, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে বই বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার এবং চার থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও এই প্রক্রিয়ার অংশ।
গুজব প্রতিরোধে কড়া হুঁশিয়ারিঃ
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার তারিখ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ করেন। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জানুয়ারি থেকে শিক্ষাবর্ষ শুরুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সাথে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় আরও সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে।