শীর্ষসন্ত্রাসী টিটন,ইমন ও পিচ্চি হেলাল - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হেলাল ও টিটন দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল আবেগী কণ্ঠে দাবি করেন, "টিটন আমার বন্ধু ছিল, ওকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম।" তবে এই 'ভালোবাসা' ও বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ব্যক্তিগত ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ছিল?
পুলিশ জানায়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চরম বিরোধ তৈরি হয়। হেলাল পুলিশকে জানিয়েছেন, কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে টিটনের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত চরম প্রতিহিংসায় রূপ নেয়। গত জুন মাসে পল্লবীর একটি জনাকীর্ণ এলাকায় দিনে-দুপুরে টিটনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে হেলালসহ আরও কয়েকজনকে সরাসরি এই হামলায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।
গ্রেফতার অভিযান
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ দল পিচ্চি হেলালকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, হেলালকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও কারা জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কোনো বড় শক্তি কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত টিটনের পরিবার এই ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পল্লবী এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ধরা পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।